শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকার উপায় ও করনীয় সম্পর্কে জানুন
শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকার উপায় জানতে আজকে আপনি সঠিক আর্টিকেলে প্রবেশ
করেছেন। বর্তমান সময়ের সঠিক ভাবে জীবনযাপন না করায় অনেকেরই শারীরিক ও
মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। এছাড়াও খাদ্যাভ্যাস ঠিক না থাকায় এ সমস্যা হয়ে থাকে।
তাই আজকের এই আর্টিকেলে আপনাদের সামনে তুলে ধরেছি কিভাবে আমরা শারীরিক ও
মানসিকভাবে ফিট থাকতে পারি তার ১৫ টি উপায় নিয়ে। তাহলে চলুন জেনে আসি শরীর ও
মন ফিট রাখার জন্য কি কি করা প্রয়োজন।
পেজ সূচিপত্রঃ শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকার উপায়
- শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকার উপায়
- শারীরিকভাবে সুস্থ থাকার উপায়
- মানসিকভাবে সুস্থ থাকার উপায়
- সুস্থ থাকার জন্য করণীয়
- সুস্থ থাকার জন্য প্রতিদিন কি কি করা উচিত
- খাদ্যের ৬টি উপাদান কি কি এবং কেন দরকার
- সুস্থ থাকার জন্য খাবারের তালিকা
- শেষকথা
শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকার উপায়
শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকার উপায় নিয়ে হয়তো আপনাদের অনেক প্রশ্ন
রয়েছে। আজকের এই আর্টিকেল পড়ার মাধ্যমে আপনি সব সমস্যা দূর করতে পারবেন।
শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে হলে বেশ কিছু নিয়ম অনুযায়ী চলাফেরা করা
প্রয়োজন। যেমন সকালে ঘুম থেকে উঠলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব।
এছাড়াও অনেক শারীরিক সমস্যা ও দূর হয়ে যায়। তাই এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি
বিষয়।
বিশেষজ্ঞরা বলে সকালে উঠলে তিনটি জিনিস পাওয়া যায় সুস্থ শরীর সম্পদ ও সময়।
এছাড়াও প্রতিদিন সকালে আধাঘন্টা করে হাঁটলে শরীর ও মন দুটোই ভালো থাকে। এতে
করে প্রতিদিনের ব্যায়ামের চাহিদা পূরণ হয়, এবং শরীর চাঙ্গা থাকে। এবং
প্রয়োজনমতো পানি পান করা প্রয়োজন। একজন মানুষের দৈনিক চার থেকে পাঁচ লিটার
পানি খাওয়া প্রয়োজন। সকালে খালি পেটে পানি পান করলে শরীরের রক্ত বিশুদ্ধ করতে
সাহায্য করে।
গুরুত্বপূর্ণ পোষ্টঃ সকালে খালি পেটে কি খেলে মোটা হওয়া যায়
এছাড়াও প্রতিদিন সুষম খাবার খাওয়া উচিত। তবে অতিরিক্ত পরিমাণে তেল, লবণ ও
মসলা জাতীয় খাবার কম খেতে হবে। এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমের প্রয়োজন। একজন
মানুষের দৈনিক আট ঘন্টা ঘুমের প্রয়োজন। নিয়মিত ঘুম আমাদের শারীরিক ও মানসিক
ভাবে ভালো রাখে। এছাড়া পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা থাকতে হবে। খাওয়ার আগে ও পরে এবং
টয়লেট থেকে আসার পর আমাদের পরিষ্কার হতে হবে। আর এভাবে চলতে পারলেই শারীরিক ও
মানসিকভাবে সুস্থ থাকা সম্ভব।
শারীরিকভাবে সুস্থ থাকার উপায়
শারীরিকভাবে সুস্থ থাকার উপায় এর প্রধান মাধ্যম হচ্ছে সঠিক খাদ্যাভ্যাস।
ফল শাকসবজি এবং মাছ সমৃদ্ধ খাবার আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে। এবং
বিভিন্ন ক্ষতিকর ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া থেকে শরীরকে রক্ষা করবে। তাছাড়া ফল ও
সবজি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ভালো উৎস। অ্যালকোহল চিনিযুক্ত ও চর্বিযুক্ত খাবার ও
লাল মাংস বাদ দেওয়ায় ভালো। নিয়মিত হাত ধোয়া সারা বছর সুস্থ থাকার আরেকটি
চমৎকার উপায়।
এছাড়াও ভোর বেলায় ঘুম থেকে উঠে হাঁটতে বের হয়ে যাবেন। সোজা হয়ে বসার অভ্যাস
করে তুলবেন। তৈলাক্ত মিষ্টি খাবার গুলো পরিহার করার চেষ্টা করবেন। সুস্থ থাকার
জন্য আরও একটি মাধ্যম হচ্ছে প্রতিদিন সবুজ শাকসবজি ও ফলমূল খাওয়া। এছাড়াও
কাজকর্ম নিয়ে ব্যস্ত থাকা প্রয়োজন। এতে আপনার মস্তিষ্ক ভালো থাকবে। সবার সময়
পাতলা সুতির কাপড় পরিধান করুন। এভাবেই শারীরিকভাবে সুস্থ থাকা সম্ভব।
মানসিকভাবে সুস্থ থাকার উপায়
শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকার উপায় কিছুটা হলেও হয়তো বুঝতে পেরেছেন। অনেক
সময় দেখা যায় শরীর ঠিক থাকলেও মানসিকভাবে সুস্থ নেই। অনেকেই এই বিষয়টি
গুরুত্ব দেয় না। তাই আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সুস্থ থাকতে হলে মানসিক ভাবে সুস্থ
থাকার প্রয়োজন রয়েছে। তাই সকল মানসিক সমস্যা দূর করে মনকে করে তুলতে হবে
ফুরফুরা। এর জন্য আপনাকে নিয়মমাফিক চলতে হবে। সময়ের কাজ সময়েই শেষ করা
প্রয়োজন।
আরো পড়ুনঃ ১ মিনিটে ঘুম আসার উপায়
নিয়ম মেনে খাওয়া, নিয়ম মেনে ঘুম থেকে ওঠা, নিয়ম মেনে বিছানায় যাওয়া এ সকল
বিষয়গুলো মানসিকভাবে সুস্থ থাকার জন্য প্রয়োজন। মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে হলে
ব্যায়াম বা খেলাধুলা করতে পারেন। এর পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবার খাওয়া প্রয়োজন।
যাতে আপনার মস্তিষ্ক সবসময় ভালো থাকে। আর এতে মানসিকভাবে সুস্থ থাকা যায়।
বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রিক ডিভাইস থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকুন। তাহলে আপনার
ব্রেনের উপর চাপ পড়বে না।
ঘুমাতে যাওয়ার এক ঘন্টা আগে যেকোনো ইলেকট্রিক যন্ত্র দূরে রাখুন। আপনার
মস্তিষ্ক সব সময় সক্রিয় রাখুন। এতে করে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পাবে। আপনার শেখার
দক্ষতাও বৃদ্ধি পাবে। আর এভাবেই চলতে পারলে এভাবেই যদি আপনার চলাফেরাকে
নিয়মমাফিক করতে পারেন তাহলে অবশ্যই শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিকভাবে
সুস্থ থাকাও সম্ভব হয়ে যাবে আপনার জন্য।
সুস্থ থাকার জন্য করণীয়
সুস্থ থাকার জন্য করণীয় রয়েছে বেশ কিছু। কারো রাত জাগা, কারো আবার পরিমিত
পরিমাণে পানি না খাওয়া, কেউ কেউ আবার যেকোন পছন্দের খাবার না জেনেই খেয়ে
থাকে। এমন না না কারণে অকেজ হয়ে পড়ছে আপনার শরীর। এটি হয়তো আপনি নিজেও বুঝতে
পারছেন না। আর সুস্থ থাকার জন্য বেশ কিছু অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন
আপনার জন্য। সেই অভ্যাসগুলোর নিচে তালিকা উল্লেখ করা হলো।
- প্রতিদিন নিয়মিত আট ঘন্টা ঘুম
- প্রতিদিন অন্তত আড়াই থেকে তিন লিটার পানি খান
- প্রতিদিন অন্তত ১০ মিনিট রোদে থাকুন
- চিনি যুক্ত খাবার পরিহার করুন
- সপ্তাহের কমপক্ষে তিন দিন ব্যায়াম করুন
- নিয়মিত প্রতিদিন বই পড়ার অভ্যাস করা
- দিনে অন্তত দশ মিনিট মেডিটেশন করুন
সুস্থ থাকার জন্য প্রতিদিন কি কি করা উচিত
শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকার উপায় এর জন্য প্রতিদিন কি কি করা উচিত
তা হয়তো আপনার অজানা। আমরা কেউই চাই না যে আমরা অসুস্থ হয়ে পড়ি। তাই আমাদের
সুস্থ থাকতে বেশ কিছু অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। যেগুলো আপনাকে পুরোপুরি সুস্থ
থাকতে সাহায্য করতে পারবে। উত্তম স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হাত ধোয়া খুবই
প্রয়োজন। কেননা অসুস্থতার হাত থেকে রক্ষা এবং জীবন বাঁচানোর ক্ষেত্রে এটি
অত্যন্ত কার্যকর।
এছাড়াও বিশুদ্ধ পানি পান করুন। পরিষ্কার হাতে জলের পাত্র ব্যবহার করুন এবং
পানি তোলার সময় হাত ও আঙুল পানির মধ্যে ডোবাবেন না। খাবারের প্রতি খেয়াল
রাখতে হবে, যাতে খাদ্য তালিকায় তৈলাক্ত খাবার না থাকে। আপনি অবশ্যই নিয়মিত
সবুজ শাকসবজি ফলমূল খাদ্য তালিকায় রাখুন। এছাড়াও শারীরিক পরিশ্রম করতে ভুলবেন
না। কেননা সুস্থ থাকার জন্য নিয়মিতভাবে শারীরিক ব্যায়াম করা অত্যন্ত
প্রয়োজন।
আপনাকে নিয়মিত পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমাতে হবে। কেননা ঘুম আহাট ভালো রাখে, এবং
রোগ প্রতিরোধ বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। সব সময় নিজের এবং প্রিয়জনদের
স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়ার জন্য সব সময় চেষ্টা করুন। কেননা সুস্থতা মানুষের
জীবনে বড় একটি নিয়ামত। তাই আমরা এ সকল অভ্যাসগুলো যদি করে তুলতে পারি তাহলে
আমরা নিশ্চিত বলতে পারি সুস্থ থাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
খাদ্যের ৬টি উপাদান কি কি এবং কেন দরকার
খাদ্যের ৬ টি উপাদান কি কি এবং কেন দরকার আপনি কি তা জানেন। যেসব খাবার গ্রহণ
করলে দেহের সমস্ত ক্ষয় পূরণ, শোষণ, বৃদ্ধিসাধন ও শক্তি উৎপাদন, সব প্রতিরোধ
ক্ষমতা বৃদ্ধি করা সহ বিভিন্ন কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে তাকে খাদ্য বলে। খাদ্য
মানুষের শরীরের গঠন ও বৃদ্ধিসাধন এবং ক্ষয়পূরণ করতে সাহায্য করে। এছাড়াও শরীরের
তাপশক্তি ও কর্ম ক্ষমতা যোগান দেয়। এছাড়াও শরীরের রোগ মুক্ত রাখতে সাহায্য করে।
আরেকটি পোষ্টঃ গাজর খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
অসুস্থ শরীরকে সুস্থ রাখায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে সুষম খাদ্য। খাদ্যের ছয়টি
উপাদান নিয়ে সুষম খাবার গঠন হয়। উপাদানগুলো হল শর্করা, আমিষ, স্নেহ, ভিটামিন,
খনিজ লবন ও পানি। এই ৬ টি উপাদান নিয়েই গঠিত হয় সুষম খাদ্য। আর তাই শারীরিক ও
মানসিক সুস্থ থাকার জন্য সুষম খাদ্য প্রতিটি মানুষের দৈনিক খাওয়া দরকার। আর
তাহলেই শরির রোগ মুক্ত থাকা সম্ভব হবে।
সুস্থ থাকার জন্য খাবারের তালিকা
শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকার উপায় এর জন্য মানুষের খাদ্য তালিকা ঠিক রাখা প্রয়োজন। সুস্থ থাকার জন্য পুষ্টিকর খাবার গ্রহন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ খাবার মানুষের দেহকে সুস্থ সবল রাখে। আর তাই আমাদের নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করা উচিত। আর সুস্থ থাকার জন্য প্রতিদিন কি কি খাওয়া প্রয়োজন তা আমরা নিচের টেবিলে তালিকাভূক্ত করেছি। নিচে পুষ্টিকর খাবার গুলোর তালিকা দেওয়া হলো।
খাবারের ধরন | খাবারের নাম |
---|---|
শাক-সবজি | পালংশাক, ব্রকলি, গাজর, টমেটো, শসা, মিষ্টি আলু, বেগুন |
ফলমূল | আপেল, কলা, কমলা, আঙুর, পেঁপে, বোরো ফল (স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি) কিভি |
প্রোটিন | ডিম, মুরগির মাংস (বিশেষ করে তেলবিহীন বা সেদ্ধ), মাছ (সামুদ্রিক মাছ যেমন স্যালমন, টুনা), ডাল (মসুর, মুগ, ছোলার ডাল), শুকনো মাংস বা সয়া প্রোটিন |
চর্বি | অলিভ অয়েল, অ্যাভোকাডো, বাদাম (আখরোট, কাজু, পেস্তা), চিনাবাদাম, মাখন |
শস্য | লাল চাল (গোলাপী চাল), ব্রাউন রাইস, ওটস, গমের রুটি, কুইনোয়া, বার্লি |
দুধজাত দ্রব্য | দুধ (যতটা সম্ভব কম চর্বিযুক্ত), দই (প probiotics সহ), পনির (কম চর্বিযুক্ত) |
পানি ও তরল | পর্যাপ্ত পানি পান করুন (প্রতি দিন ৮-১০ গ্লাস), লেবুর পানি, ডিটক্স পানি (শসা, মিথি তেজপাতা ইত্যাদি দিয়ে), চা (সবুজ চা বা হার্বাল চা) |
স্ন্যাকস | মিক্সড বাদাম, ফলের স্মুদি, হোল গ্রেইন ক্র্যাকার, দই এবং ফলের স্যালাড, শুকনো ফল (খেজুর, আখরোট) |
শেষকথা
শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকার উপায় হয়তো এতক্ষণে আপনি পুরোপুরি তা
বুঝতে পেরেছেন। আমাদের সবচাইতে আগে লক্ষ্য রাখতে হবে নিজের শরীর ও স্বাস্থ্য
কে। তাই আমাদের উচিত শরীর ও স্বাস্থ্য ঠিক করার জন্য প্রয়োজনীয় খাবার গ্রহণ
ও ইয়োগা করা। আপনি যদি এই বিষয়টি জেনে নাও থাকেন তাহলে আর্টিকেলটি পড়ে
পুরোপুরি তা জানতে পারবেন। কিভাবে শরীর ও স্বাস্থ্য ফিট রাখা যায়।
আশা করছি আর্টিকেলটি আপনি পুরোপুরি বুঝতে পেরেছেন। এবং এই আর্টিকেলটি পড়ে
উপকৃত হয়েছেন। আপনার যদি আরো কোন অজানা তথ্য থেকে থাকে তাহলে আমাদের সাথে
যোগাযোগ করতে পারেন। অথবা আমাদের এই অর্গানাইজ আইটি ওয়েবসাইটে ফলো দিয়ে
রাখতে পারেন। আমরা প্রতিনিয়তই নতুন নতুন আর্টিকেল প্রকাশ করে থাকি এই
ওয়েবসাইটে। আজকের মত এখানে বিদায় নিচ্ছি ভালো থাকবেন ধন্যবাদ।
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url