সুস্বাস্থ্যের জন্য খাদ্য তালিকা গুলো বিস্তারিত দেখে নিন

সুস্বাস্থ্যের জন্য খাদ্য তালিকায় কি থাকা উচিত এই বিষয়টা আমাদের সবারই জানা অত্যন্ত প্রয়োজন। কারণ শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকার জন্য খাদ্যের ভূমিকা অপরিসীম। তাই আমাদের নিয়মিত সুষম খাবার গ্রহণ করতে হবে।
সুস্বাস্থ্যের-জন্য-খাদ্য-তালিকা
আর তাই আজকের এই আর্টিকেল আমরা প্রকাশ করেছি সুস্থ সবল থাকার জন্য কি কি খাবার গ্রহণ করা উচিত। বা আপনার খাদ্য তালিকায় কি থাকা উচিত। যার সমস্ত বিষয় নিয়ে প্রায় ১০ টি পুষ্টিকর খাবারের কথা উল্লেখ করেছি এই  আর্টিকেলে।

পেজ সূচিপত্রঃ সুস্বাস্থ্যের জন্য খাদ্য তালিকা

সুস্বাস্থ্যের জন্য খাদ্য তালিকা

সুস্বাস্থ্যের জন্য খাদ্য তালিকায় আপনাদের থাকতে হবে অবশ্যই পুষ্টিকর সব খাবার। আমি আপনি সুস্থ সবল ভাবে আপনার জীবন যাপন রাঙিয়ে তুলতে পারেন। খাবারের মাধ্যমে শরীর নির্ধারণ করা হয়। আপনার শরীরের ভেতরে কি অবস্থা, ছাড়াও আপনার রোগ বালাই দূর হবে কিভাবে। কিভাবে আপনি মোটা হবেন বা মোটা থেকে চিকন হবেন, এর সমস্তই খাদ্যের উপর নির্ভরশীল। তাই অবশ্যই আমাদের আদর্শ খাবারগুলোকে বেছে নিতে হবে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায়।
গুরুত্বপুর্ণ পোষ্টঃ বয়স অনুযায়ী খাদ্য তালিকা গুলো

আপনি যে সময় খাবার খান না কেন সেই খাবারের ৫০% ফলমূল ও শাকসবজি খাওয়ার চেষ্টা করবেন। এবং ২৫% প্রোটিন বা আমিষ জাতীয় খাবার খাওয়ার চেষ্টা করবেন। সেটি হতে পারে মাছ, মাংস অথবা ছোলা জাতীয় খাবার। এবং বাকি ২৫% হবে শর্করা জাতীয় খাবার। তবে শর্করা জাতীয় খাবারের মধ্যে আঁশ জাতীয় খাবার রাখার চেষ্টা করবেন। আর এভাবে আপনার খাবারের তালিকা করলে আপনি অবশ্যই সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে পারেন।

স্বাস্থ্যকর খাবার তালিকা গুলো কি কি

স্বাস্থ্যকর খাবার তালিকা গুলো সবার সুস্থ থাকার জন্যই প্রয়োজন। কারণ স্বাস্থ্যকর খাবার শরীরের সকল চাহিদা মিটিয়ে থাকে। এবং স্বাস্থ্যকে ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আর তাই কোন খাবার গুলো আমাদের খাওয়া উচিত সেটি আমাদের সবার আগে জানা উচিত। আর তার জন্য আপনাদের সামনে নিচে একটি স্বাস্থ্যকর খাবারের চাট উল্লেখ করা হয়েছে।
খাবারের উপাদান খাবারের নাম
প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার মুরগির মাংস ও মাছ,ডিম (এটা প্রোটিনের ভালো উৎস),মুগ ডাল, মাষকলাই, লাল ডাল, সেদ্ধ ছোলা, সয়াবিন মটরশুঁটি, লেন্টিল, কিডনি বিনস।
শাকসবজি ও ফলমূল পালং শাক, ব্রকলি, টমেটো, গাজর, কুমড়া, শসা, ফুলকপি, বেগুন, মিষ্টি আলু, সবুজ পাতা জাতীয় শাক
কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট ব্রাউন রাইস বা কুইনোয়া শর্করার ভালো উৎস এবং হালকা খাবার।গমের ময়দা দিয়ে তৈরি রুটি, সাদা ময়দা না ব্যবহার করা ভালো।
হেলদি ফ্যাট অলিভ অয়েল রান্নায় ব্যবহার বা সালাদে ব্যবহার করা যায়।কোকোনাট অয়েল রান্নায় ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে পরিমিত পরিমাণে।
দই ও দুধজাত খাবার প্রোবায়োটিকস সমৃদ্ধ দই হজম ব্যবস্থাকে উন্নত করে এবং পেটের ভালো ব্যাকটেরিয়া বজায় রাখে।গরুর দুধ, ছাগলের দুধ বা সোয়া মিল্ক।
হেলদি স্ন্যাকস বাদাম ও বীজ, ফল ও দই, হেলদি চিপস (বেকড কুমড়া বা মিষ্টি আলুর চিপস)।
ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার বিনস,(উচ্চ ফাইবার এবং প্রোটিন সমৃদ্ধ), মুলা, গাজর, শসা, পেঁপে।
মিষ্টি ও পানীয় ফল থেকে তৈরি মিষ্টি, হরবাল চা (যেমন: গ্রিন টি, মিণ্ট চা), ফ্রেশ জুস।

স্বাস্থ্যকর খাবার কাকে বলে জেনে নিন

সুস্বাস্থ্যের জন্য খাদ্য তালিকায় অবশ্যই আমাদের সুষম খাবার রাখতে হবে। আর তাই আমাদের জানতে হবে সুষম খাদ্য কি? যেসব খাদ্যে সকল প্রয়োজনীয় পুষ্টি বিদ্যমান থাকে যেমন, আমি, স্নেহ, ভিটামিন, শর্করা, খনিজ লবণ ও পানি রয়েছে তাকেই সুষম খাদ্য বলা হয়। আর এই সুষম খাদ্য গ্রহণ করলে শরীরের গঠন বৃদ্ধি সাধন ও তাপ শক্তি বাড়িয়ে দেয়। আর তাই আমাদের সকলের প্রয়োজন সুষম খাবার গ্রহণ করা।

স্বাস্থ্যকর-খাবার-কাকে-বলে
স্বাস্থ্যকর খাবার বলতে আমরা সাধারণত বুঝি যেই খাদ্যে শরীরের সকল চাহিদা পূর্ণ করে এবং শারীরিক এবং মানসিকভাবে সুস্থ ও সবল রাখে সেটাই হচ্ছে স্বাস্থ্যকর খাবার। আর এই স্বাস্থ্যকর খাবার এ সুষম খাদ্যের ছয়টি উপাদানই বিদ্যমান থাকতে হবে। তবেই স্বাস্থ্যকর খাবার বলে বিবেচিত করা হবে। আর এই স্বাস্থ্যকর খাবার কেমন শরীরকেই ভালো রাখে না, এর পাশাপাশি আমাদের মস্তিষ্ক বা মানসিকভাবেও সচল রাখতে সাহায্য করে থাকে।

সুস্বাস্থ্যের জন্য কি কি খাবার খাওয়া উচিত

কিসের জন্য কি কি খাবার খাওয়া উচিত তা আমরা অনেকেই জানিনা। তাই সুস্থ থাকতে হলে আমাদের জানা উচিত প্রতিদিন আমাদের কি কি খাওয়া উচিত। তাই এমন কিছু খাবার রয়েছে যেটি শরীর ও মনকে দুটোই ভালো রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু সেই খাবারগুলো কি সেটা আমাদের জানা উচিত। শাকসবজি ও ফলমুল বেশি করে খান। তুমি যেমন পালং শাক, টমেটো, বেগুন এবং ফলের মধ্যে আপেল, কলা, কমলা, পেঁপে, আনারস, তরমুজ,  আঙ্গুর।
 

প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার যেমন মাছ, মাংস, ডিম, মুগের ডাল, কাজুবাদাম ইত্যাদি। স্বাস্থ্যকর চর্বির অলিভ ওয়েল, কোকোনাট অয়েল, বাদাম, অ্যাভোকাডো। ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার যেমন গাজর, শসা, ছোলা, আপেল, আনারস ইত্যাদি। এছাড়া প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করুন। এভাবেই প্রতিদিনের খাবারকে মেন্টন করে খেতে পারলেই আপনার শরীর ও মন দুটোই ভালো রাখতে সাহায্য করবে।

সুস্থ থাকা নির্ভর করে কেমন খাদ্যের উপর

সুস্বাস্থ্যের জন্য খাদ্য তালিকার পাশাপাশি সুস্থ থাকা নির্ভর করে সম্পূর্ণ সুষম খাদ্যের উপর। মানুষের শারীরিক, মানসিক ও শক্তির যোগান দিয়ে থাকে সুষম খাদ্য। সুষম খাদ্য এমন একটি খাবার যে খাবারের মধ্যে শরীরের সকল চাহিদা পূর্ণ করতে সহায়তা করে। সুষম খাবারের মধ্যে রয়েছে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, খনিজ, ভিটামিন, ফ্যাট এবং পানি। আরে এই সকল উপাদান গুলো শরীরে গিয়ে শরীরকে সুস্থ রাখতে ও শক্তি জোগাতে সাহায্য করে থাকে।

প্রোটিন মানুষের দেহের কোষ কে নতুন করে গঠন করতে সাহায্য করে। এবং কার্বোহাইড্রেট শরীরের প্রধান একটি শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে। ফ্যাটের মাধ্যমে শরীরের দল শক্তি দীর্ঘমেয়াদি করে। ভিটামিন এবং খনিজে শরীরের মেটাবলিজম ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। আর তাই সুষম খাবার গ্রহণ করলে শরীরকে সুস্থ রাখা সম্ভব। তাই বলা যায় সুস্থ থাকা নির্ভর করে সুষম খাদ্যের উপর।

স্বাস্থ্যকর খাবার কেন খাওয়া উচিত

স্বাস্থ্যকর খাবার কেন খাওয়া উচিত তা কি আপনি জানেন?  সুস্থ ভাবে বেঁচে থাকতে চাইলে শুধু খাবার নয়, প্রয়োজন আপনার স্বাস্থ্যকর খাবারেরও। আপনি যদি আপনার শরীরকে সুস্থ ও সবল রাখতে চান, তাহলে নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাবার খান। প্রতিদিন পুষ্টিকর খাবারের আপনি নিজে থেকেই একটি তালিকা তৈরি করে নিন। আমরা সবাই জানি স্বাস্থ্যকর খাবার খেলে শরীরের শক্তি যোগায় এবং শরীরকে ভালো রাখতে সাহায্য করে।

সব সময় পুষ্টিকর ও উপকারী খাবার খাওয়া দরকার। আর যদি স্বাস্থ্যকর খাবার না খান, তাহলে কাজে মন বসবে না, মেজাজ ফুরফুরে থাকবেনা। এই স্বাস্থ্য ভালো করার জন্য বেশ কিছু উপায় রয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে ভালো উপায় স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া। প্রতিদিন এমন খা খাবার খাওয়া উচিত যে খাবারগুলোতে সব উপাদান বিদ্যমান থাকে। তাই আপনাকে নিয়মিত সুষম খাবার খেতে হবে। যা সবার জন্য স্বাস্থ্যকর, এবং এই খাবার খেলে শরীর ও মন দুটোই ভালো রাখতে সাহায্য করবে।

স্বাস্থ্যের সাথে খাদ্যের সম্পর্ক কি কি

সুস্বাস্থ্যের জন্য খাদ্য তালিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা নিশ্চয়ই জেনেছেন। কিন্তু এই সুস্বাস্থ্যকর খাবার এবং স্বাস্থ্য এর মধ্যে কেমন সম্পর্ক আমরা বুঝতে পারি তা কি লক্ষ্য করেছেন? খাদ্য এবং স্বাস্থ্য এই দুটি জিনিসের মধ্যে খুব গভীর একটি সম্পর্ক রয়েছে। শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য খাদ্যের গুরুত্বপূর্ণ অপরিসীম। সঠিক খাদ্য গ্রহণ করলে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকা সম্ভব। আর তাই স্বাস্থ্যের জন্য খাদ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
স্বাস্থ্যের-সাথে-খাদ্যের-সম্পর্ক
খাদ্য দেহের শক্তি যোগান দেয়। এবং দেহের সকল পুষ্টির সরবরাহ করে থাকে এই সঠিক খাদ্য। খাদ্যের মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব আবার আপনার শরীরের ওজন বাড়ানোও সম্ভব। এছাড়াও খাদ্যে রয়েছে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পুষ্টি গুনাগুন। কিছু খাবার হরমানের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণে রাখে। এছাড়া সঠিক খাতে গ্রহণ করার মাধ্যমে আপনার সঠিক ঘুমও হয়ে থাকে। আর তাই বলা যায় স্বাস্থ্যের সাথে খাদ্যের সম্পর্কটা অনেক গভীর।

শেষকথা

সুস্বাস্থ্যের জন্য খাদ্য তালিকা গুলো কি কি হওয়া উচিত তা নিশ্চয়ই এতক্ষনে আপনি পুরোপুরি বুঝতে পেরেছেন। আর এই খাবারগুলো গ্রহণ করার মাধ্যমে আমরা সব দিক দিয়ে দেহকে বা শরীরকে সুস্থ ও সবল রাখতে পারি। তাই স্বাস্থ্যকর খাবারের কোন বিকল্প কিছুই নেই। সেটি যদি হয় সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক। তাই আমরা চেষ্টা করব স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার, যেটা হবে সম্পূর্ণ ভেজালমুক্ত এবং প্রাকৃতিক।

আশা করছি আর্টিকেলটি আপনি পুরোপুরি বুঝতে পেরেছেন এবং আপনি উপকৃত হয়েছেন। এছাড়াও আপনার যদি আরো কোন অজানা তথ্য থেকে থাকে তাহলে আমাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ পেজে গিয়ে যোগাযোগ করতে পারেন। অথবা আমাদের এই অর্গানাইজ আইটিকে ফলো দিয়ে রাখতে পারেন, ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url