প্রতিদিন কয়টা আমলকি খাওয়া উচিত খাওয়ার আগে অবশ্যই জেনে নিন
প্রতিদিন কয়টা আমলকি খাওয়া উচিত এটা আমাদের সকলের জানা উচিত। কারণ আমলকিতে
রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন। যা আমরা শরীরের বিভিন্ন উপকারের জন্য খেয়ে থাকি।
কিন্তু এই আমলকি যদি আমরা বেশি পরিমাণে খেয়ে থাকি তাহলে বিভিন্ন সমস্যা দেখা
দিতে পারে।
আর তাই আজকের এই আর্টিকেলে আমরা উল্লেখ করার চেষ্টা করেছি যে প্রতিদিন কি পরিমানে
আমাদের আমলকি খাওয়া উচিত। এবং আমলকি খেলে কি উপকার হয় এবং বেশি খেলে কি হয় তার
বিস্তারিত আলোচনা করেছি এই আর্টিকেলে।
পেজ সূচিপত্রঃ প্রতিদিন কয়টা আমলকি খাওয়া উচিত
- প্রতিদিন কয়টা আমলকি খাওয়া উচিত
- আমলকি কাদের খাওয়া উচিত নয়
- আমলকির ক্ষতিকর দিক গুলো কি
- আমলকি কখন খাওয়া উচিত জেনে নিন
- আমলকি খেলে কি উপকার হয়
- আমলকি খেলে কি দাঁতের ক্ষতি হয়
- আমলকি চুলে দেওয়ার নিয়ম
- শেষকথা
প্রতিদিন কয়টা আমলকি খাওয়া উচিত
প্রতিদিন কয়টা আমলকি খাওয়া উচিত তা কি আপনি জানেন? যদি না জেনে থাকেন তাহলে
আজকের এই আর্টিকেলে আপনি এই আমলকি সম্পর্কে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জেনে
যাবেন। আমলকিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন। কিন্তু এই আমলকি যদি আপনি
বেশি পরিমাণে খান তাহলে হতে পারে বিপদ। ত্বক, চুল, পেট ও শরীরের বিভিন্ন
সমস্যা দূর করতে পারে এই একমাত্র আমলকি। এক কথাই বলা যায় হাজার সমস্যার
সমাধান করতে পারে আমলকি।
আরো পড়ুনঃ গর্ভাবস্থায় কি কি ফল খাওয়া যাবে না
আমলকিতে থাকা ভিটামিন সি এবং এন্টিঅক্সিডেন্ট অনেক রোগ সারাতে সক্ষম। কিন্তু
বেশি আমলকি খেলে হতে পারে বিভিন্ন সমস্যা। আপনি চাইলে প্রতিদিন সকালে খালি
পেটে এক থেকে দুইটি আমলকি চিবিয়ে খেতে পারেন। এভাবে খেলে আপনি বেশি উপকার
পাবেন। তবে এর চাইতে বেশি খাওয়া একদমই ঠিক হবে না। কারণ আমলকিতে রয়েছে
প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি। বেশি খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের মত সমস্যা হতে পারে।
আমলকি কাদের খাওয়া উচিত নয়
আমলকি কাদের জন্য খাওয়া উচিত আমলকি খাওয়ার আগে অবশ্যই এটি আপনার জানা
দরকার। আমলকিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি। কিন্তু কাদের জন্য আমলকি
হেতে বিপরীত কাজ করবে তা কি আপনি জানেন? কিছু ক্ষেত্রে এই আমলকিকে এগিয়ে
যাওয়াই ভালো। আপনার যদি কোন সার্জারি বা অপারেশনের রোগী হয়ে থাকেন তাহলে
ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে আমলকি খাওয়াটাই ভালো হবে।
এছাড়াও যারা ছোট বাচ্চার মা অর্থাৎ যারা বাচ্চাকে স্তন পান করান তাদের
ক্ষেত্রেও আমলকি এড়িয়ে চলাই ভালো। কারণ আমলকিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে
ভিটামিন সি যা অতিরিক্ত খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের মত সমস্যা দেখা দিতে পারে। আর
তাই প্রতিদিন এক থেকে দুইটি আমলকি চিবিয়ে খেতে পারেন। তবে জুস তৈরি করে
খাবার চাইতে পুরো আমলকি চিবিয়ে খাওয়াটা বেশি উপকার পাওয়া যায়।
আমলকির ক্ষতিকর দিক গুলো কি
প্রতিদিন কয়টা আমলকি খাওয়া উচিত এবং এর বেশি খেলে তার কি কি ক্ষতিকর দিক
রয়েছে চলুন এবার তা জেনে নিন। আমলকি এমনিতেই খুব উপকারী একটি ফল। তবে
অতিরিক্ত আমলকি খেলে বেশ কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। অতিরিক্ত
আমলকি খাওয়ার ফলে এসিডিটি ও ডায়রিয়ার মত সমস্যা দেখা দিতে পারে। এবং আমলকি
খাওয়ার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রাও কমিয়ে দিতে পারে।
আরো পড়ুনঃ কলার খোসা দিয়ে রূপচর্চা কিভাবে করা হয়
আর তার জন্য ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন। এছাড়াও
গর্ভবতী মহিলা বা বুকের দুধ দেওয়া অবস্থায় আমলকি না খাওয়াই ভালো। কারন
আমলকি শরীরের বিভিন্ন পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম। এবং আপনি যদি বিভিন্ন প্রকার ঔষধ
সেবন করে থাকেন তাহলে তার মধ্যে আমলকি নিয়ে চলাটাই ভালো। এতে করে ওষুধের
সাথে আমলকি মিথস্ক্রিয়া ঘাটাতে পারে। আমলকি উপকারী ফল তবে অতিরিক্ত খাওয়াটা
ক্ষতিকর।
আমলকি কখন খাওয়া উচিত জেনে নিন
আমলকি কখন খাওয়া উচিত এটাও আমাদের জানা প্রয়োজন। কারণ প্রতিটা জিনিসেরই
কিছু সময় অনুযায়ী খাওয়া উচিত। যাতে সেই জিনিসটির গুণগুলো ভালোভাবে কাজ
করতে পারে। আমলকি সকালবেলা খালি পেটে খাওয়া সবচেয়ে ভালো। আমলকিতে রয়েছে
প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি শরীর ত্বক ও চুলের জন্য
বেশ উপকারী। এবং আপনি খাওয়ার পরেও আমলকি খেতে পারেন।
এতে আপনার হজম শক্তি বৃদ্ধি করতে কাজ করবে। এবং আপনার পাঁচন তন্ত্র কে সুস্থ
রাখতে সাহায্য করবে। এবং আপনি চাইলে রাতেও আমলকি খেতে পারেন। এতে শরীরের
শক্তি যোগান দেয় এবং ঘুমের কোন সমস্যা থাকলে সেই সমস্যা দূর করতে সাহায্য
করে থাকে। তবে বেশি পরিমাণে আমলকি খাওয়া একদমই ঠিক হবে না। অতিরিক্ত আমলকি
খেলে পেটের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই আমাদের সঠিক সময় সঠিক
পরিমাণে আমলকি খাওয়া উচিত।
আমলকি খেলে কি উপকার হয়
প্রতিদিন কয়টা আমলকি খাওয়া উচিত এবং আমলকি খেলে কি কি উপকার পাওয়া যায় তা
আমরা জেনে নেই। আমলকি একটি উপকারী ফল যেটি খেলে অনেক উপকার পাওয়া যায়।
আমলকিতে রয়েছে ভিটামিন সি এবং এন্টিঅক্সিডেন্ট পুষ্টি যেটি মানবদেহে খুব
প্রয়োজনীয় একটি উপাদান। আমলকি খাওয়ার ফলে ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে
তুলতে সাহায্য করে। এবং সর্দি, কাশি অন্যান্য ইনফেকশন থেকে রক্ষা করতে পারে।
এছাড়াও হজম ক্ষমতাকে বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে।
আরো পড়ুনঃ শীতে ত্বকের যত্নে ঘরোয়া উপায়
সঠিক মাত্রায় আমলকি খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যর মত সমস্যাও সারাতে পারে আমলকি। এবং
আমলকি ত্বক ও চুলের জন্য বেশ উপকারী একটি ফল। এটি ত্বকের বলিরেখা ও কালো দাগ
দূর করে এবং পাশাপাশি বয়সের ছাপ কমাতে পারে। এছাড়াও আমলকি খেলে রক্তের
কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। এবং
আমলকি খেলে মানবদেহে অধিক পরিমাণের শক্তি যোগান দেয়। এতে মানসিকভাবে ও
শারীরিকভাবে সুস্থ থাকা যায়।
আমলকি খেলে কি দাঁতের ক্ষতি হয়
আমলকি খেলে কি দাঁতের ক্ষতি হবে কিনা এটাও আমাদের জানা উচিত। যেহেতু আমলকিতে
রয়েছে ভিটামিন সি সেহেতু দাঁতের ক্ষতির না হওয়ারই কথা। কিন্তু পরিমাণের
চাইতে যদি বেশি আমলকি খায় কেউ হলে তার তাতে এটি জমে যেতে পারে। আর দাঁতের
জমে থাকা খাদ্য দাঁতের জন্য ক্ষতিকর। আমলকি টক জাতীয় খাবার আর এই আমলকিতে
থাকতে পারে এসিড। সেই এসিড যদি বেশিক্ষণ দাতে লেগে থাকে তাহলে দাঁতের ক্ষয়
হতে পারে।
এর জন্য আমাদের অবশ্যই সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরী। এর জন্য আমলকি খাওয়ার পর
আমাদের কুলি করা উচিত। যাতে দাঁতে আমি ওকে এসিড না লেগে থাকে, এবং বেশি করে
পানি খাওয়া উচিত। এবং অতিরিক্ত আমলকি পরিহার করে চলা দরকার। এবং আমলকি কে
গুড় বা মধু দিয়ে খাওয়া ভালো এতে দাঁতের কোনো ক্ষতি করবে না। এবং খাওয়ার
আগে অবশ্যই আমলকি পরিষ্কার করে নিতে হবে।
আমলকি চুলে দেওয়ার নিয়ম
প্রতিদিন কয়টা আমলকি খাওয়া উচিত এটা আমরা জানলাম। এইবার আমরা জানবো আমলকি
চুলে দেওয়ার নিয়ম গুলো কি কি। আমলকি স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী এবং পাশাপাশি
চুলের জন্যও বেশ কার্যকরী। মাথার চুলে বা ত্বকে আমলকি দুই ভাবে ব্যবহার করা
যেতে পারে। একটি হচ্ছে আমলকির তেল ব্যবহার করা এবং অপরটি হচ্ছে আমলকির পেস্ট
তৈরি করে চুলে বা ত্বকে ব্যবহার করা। আর সেই জন্য আপনি চাইলে আমলকির তেল নিচে
হাতে বাড়িতেও বানিয়ে নিতে পারেন।
তার জন্য কয়েকটি আমলকি কুচি করে কেটে আপনার পছন্দমত তেলে ভিজিয়ে নিন। এবার
দুইটির মিশ্রণ কিছুক্ষণ গরম করে দিন। গরম করা হয়ে গেলে ঠান্ডা হওয়ার পরে আপনি
চুলে ব্যবহার করতে পারেন। এবং আমলকি আপনি চাইলে মধু, মেথি, অ্যালোভেরা, দই
দিয়েও পেস্ট বানিয়ে আপনার চুলে বা ত্বকে ব্যবহার করতে পারেন। এই পদ্ধতি দুটি
ব্যবহার করে আপনি চুল ও ত্বক এর উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে নিতে পারেন।
শেষকথা
প্রতিদিন কয়টা আমলকি খাওয়া উচিত এবং আমলকির উপকারিতা এবং অপকারিতা সম্পর্কে
নিশ্চয়ই এতক্ষণে আপনি এই আর্টিকেলটি পড়ে বুঝতে পেরেছেন এবং আপনার সঠিক তথ্য
পেয়ে উপকৃত হয়েছেন বলে আশা করছি। আপনি যদি এই বিষয়ে না জেনে থাকেন তাহলে এই
পুরো আর্টিকেলটি আপনার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এবং আপনার যদি আরো কোন অজানা তথ্য
থেকে থাকে তাহলে আমাদের এই ওয়েবসাইটে ফলো রাখতে পারেন ধন্যবাদ।
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url