গর্ভাবস্থায় কি কি ফল খাওয়া যাবে না তার সম্পূর্ণ চার্ট দেখে নিন
গর্ভাবস্থায় কি কি ফল খাওয়া যাবে না এই বিষয়টি জানা আপনার জন্য অত্যন্ত
প্রয়োজন আপনি যদি একজন গর্ভধারী নারী হয়ে থাকেন। এই সময় মানুষ পুষ্টিকর খাবার
খাওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের ফলমূল খেয়ে থাকেন কিন্তু এমন কিছু ফল রয়েছে যা
গর্ভবতী অবস্থায় একেবারেই খাওয়া যাবে না।
আর তাই এই বিষয়টি লক্ষ্য করে আমরা আজকের এই আর্টিকেলটি সাজিয়েছি। আজকের এই
আর্টিকেলে আমরা তুলে ধরেছি গর্ব অবস্থায় কোন কোন ফল খাওয়া যাবে না এমন ১৫ টি
ফলের নাম। তাহলে চলুন জেনে নিই কি কি সেই ফলগুলো।
পেজ সূচিপত্রঃ গর্ভাবস্থায় কি কি ফল খাওয়া যাবে না
গর্ভাবস্থায় কি কি ফল খাওয়া যাবে না
গর্ভাবস্থায় কি কি ফল খাওয়া যাবে না এটি আপনাকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে।
এবং অনেকেই প্রশ্ন করে থাকে কোন কোন খাবার খাওয়া যাবে এবং কোন কোন খাবার
খাওয়া যাবেনা। গর্ভাবস্থায় কিছু কিছু ফল আছে যা একদমই খাওয়া যাবেনা, যা এই
সময় খেলে ক্ষতি হতে পারে। প্রতিটি গর্ভবতী নারীকে এই সময় সতর্ক থাকতে হয়।
অনেক খাবার আছে যেগুলো এই সময় খাওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে কিছু কিছু ফল আছে
যা গর্ভাবস্থায় খাওয়া উচিত নয়।
আরো পড়ুনঃ নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার
আর কিছু ফল খেলে ক্ষতি হতে পারে যা গর্ভপাতের কারণ হতে পারে। গর্ভাবস্থায়
প্রথম তিন মাস আনারস এড়িয়ে চলুন। এছাড়াও কাঁচা বা পাকা পেঁপে প্রথম তিন
মাস পর্যন্ত না খাওয়াই ভালো। এছাড়াও গর্ভাবস্থায় সবুজ বা লাল আঙ্গুর
এড়িয়ে চলা উচিত। গর্ভাবস্থায় অনেকেই তেঁতুল খেতে চায়, আর এই সময় তেতুল
এড়িয়ে চলাটাই শ্রেয়। এছাড়াও রয়েছে কলা, তরমুজ, খেজুর এই সকল ফলগুলো
গর্ভাবস্থায় একদমই খাওয়া উচিত হবে না বলে মনে করা যায়।
গর্ভাবস্থায় কি কি সবজি খাওয়া যাবে না
গর্ভাবস্থায় কি কি সবজি খাওয়া যাবেনা এটা প্রত্যেক গর্ভবতী নারীকে জানতে
হবে। বিশেষ করে গর্ভাবস্থার শেষের দিকটাই অনেকটাই ক্রিটিকাল হয়ে থাকে। যে
কারণে তাদের খাবারকে এই মেন্টেন করে চলতে হয়। আর তাই গর্ভাবস্থায় কিছু সবজি
রয়েছে যা খাওয়া যাবে না। এ সময় কিছু কিছু খাবারের উপকার আছে আবার কিছু
কিছু খাবারে অপকারও আছে। তাই একজন গর্ভবতী মা হিসেবে অবশ্যই জানা উচিত কি কি
সবজি খাওয়া যাবে না।
গর্ভাবস্থায় কোন ধরনের কাঁচা শাকসবজি খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। কারণ কাঁচা
শাকসবজিতে ময়লা বা জীবন থাকতে পারে। এবং বাইরের কোন খাবার খাওয়া উচিত নয়।
গর্ভাবস্থায় যে সকল সবজি খাওয়া যাবেনা তাহলে করলা, পেঁপে, অতিরিক্ত সজনা,
অ্যালোভেরা জুস, আধা সিদ্ধ ডিম, এবং সকল ধরনের কাঁচা শাকসবজি খাওয়া থেকে
বিরত থাকুন গর্ভাবস্থার সময়। তাহলে আপনি ও আপনার পেটের সন্তান সুস্থ ও সবল
থাকতে পারবেন।
গর্ভাবস্থায় লেবু খাওয়া যাবে কি
গর্ভাবস্থায় কি কি ফল খাওয়া যাবে না তানিয়া রয়েছে অনেক প্রশ্ন। আর তাই
আমাদের জানতে হবে গর্ব অবস্থায় লেবু খাওয়া যাবে কিনা। লেবুতে রয়েছে
পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন সি। আর শরীরের ভিটামিন সি এর ঘাটতি মেটাতে অনেকেই
গর্ব অবস্থায় কালীন লেবু খেয়ে থাকে। গর্ভাবস্থায় অনেকেরই রক্তশূন্যতা দেখা
দিতে পারে। আর এই লেবু রক্তে হিমোগ্লোবিন ও রক্তশূন্যতা দূর করতে সাহায্য করে
থাকে। এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে পাশাপাশি আয়রনের ঘাটতি দূর
করে।
আরো পড়ুনঃ শিশুর ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার
১০০ গ্রাম লেবুর রসে ২৯ কিলোক্যালরি শক্তি রয়েছে। যা একটি নারীর জন্য দৈনিক
শক্তির ১.৩% পূরণ করতে সক্ষম। আর একজন গর্ভবতী মহিলার জন্য প্রথম তিন মাসের
প্রতিদিন ১.৬১% শক্তি পূরণ করে। দ্বিতীয় তিন মাসে ১.৩২% শক্তি পূরণ করে। এবং
এর পরবর্তী সময়গুলোতে ১.২১ শতাংশ শক্তি পূরণ করতে সক্ষম। তাই বলা যায় একজন
গর্ভবতী মহিলার জন্য লেবু খাওয়া প্রয়োজন এবং একটিতে অনেক উপকারী পাওয়া
যায় গর্ভাবস্থা কালীল সময়ে।
গর্ভাবস্থায় কি কি মাছ খাওয়া যাবে না
গর্ভাবস্থায় কি কি মাছ খাওয়া যাবে না তা আমাদের জানা দরকার। একজন গর্ভবতী
মহিলার একটি স্বাস্থ্যকর ব্রণের প্রতিপালনের জন্য মাছ খাওয়া জরুরী। তবে
বর্তমান সময়ে আমাদের মাছ খাওয়াতেও সতর্কতা রাখতে হবে। কারণ বিষাক্ত এবং
দূষিত মাছের মধ্য দিয়ে দেহে প্রবেশ করে। যা গর্ভস্থ বাচ্চার জন্য ক্ষতিকর
প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সপ্তাহে একদিনের বেশি চিংড়ি মাছ খাওয়া উচিত হবে না।
গর্ভাবস্থায় মার্কারি বা রাসায়নিক পদার্থ মিশ্রিত মাছগুলো একেবারেই খাওয়া
যাবে না। এর মধ্যে রয়েছে কিং মেকেরিয়াল, হাঙ্গেরি, শর্ট ফিস বা তলোয়ার মাছ
একেবারেই খাওয়া উচিত নয়। এছাড়াও রয়েছে তেলাপিয়া মাছ যা গর্ভাবস্থায়
এড়িয়ে চলা উচিত। এছাড়াও রয়েছে টুনা ফিস এই মাছগুলো আমাদের গর্ভাবস্থার
কালীন এড়িয়ে চলা উচিত। এতে করে বাচ্চার জন্মগত ত্রুটি নিয়ে জন্মগ্রহণ করতে
পারে। তাই এসব মাছ গর্ভাবস্থায় খাওয়া যাবে না।
গর্ভাবস্থায় কি কি খাওয়া যাবে না
গর্ভাবস্থায় কি কি ফল খাওয়া যাবে না আমরা তো এতক্ষণে জেনেছি। কিন্তু ফলের
বাইরেও গর্ভাবস্থায় কিছু খাওয়ার মেন্টেন করে খাওয়া উচিত। সেটি যদি আমরা না
জেনে থাকি তাহলে গর্ভের বাচ্চার উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। এতে শিশু
জন্মানোর সময় জন্মগত কিছু সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তার জন্য গর্ভবতী মহিলার
কাঁচা অর্থাৎ অল্প সেদ্ধ মাছ-মাংস খাওয়া যাবে না। একই রকম কাঁচা দুধ বা
বিভিন্ন ধরনের পনির এড়িয়ে চলা প্রয়োজন।
আরো পড়ুনঃ গাজর খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
এছাড়াও রয়েছে অ্যালকোহল জাতীয় খাবার, ক্যাফেইন, বাইরের প্যাকেট জাতকৃত
খাবার, গ্যাস্ট্রিক হবে এমন খাবার এরিয়া চলা উচিত। এছাড়াও রয়েছে
রেস্টুরেন্টের বিভিন্ন খোলা খাবার, এগুলো গর্ভাবস্থার সময় না খাওয়াই ভালো। এই
সময় স্বাস্থ্যকর খাবার সবুজ শাকসবজি, পুষ্টিকর ফলমূল, প্রোটিনযুক্ত খাবার
খাওয়া উচিত। এতে মা ও পেটের বাচ্চা দুজনকেই সুস্থ ও রাখতে সহায়তা করে থাকে।
তবে এই ক্ষেত্রে গাইনি বিশেষজ্ঞ পরামর্শ নিতে পারেন।
গর্ভাবস্থায় সজনে পাতা খাওয়ার উপকারিতা
গর্ভাবস্থায় সজনে পাতা খাওয়ার উপকারিতা এত পরিমাণ বেশি যে গর্ভাবস্থায় থাকা
মায়েদের জন্যও প্রচুর কার্যকরী। মাল্টিভিটামিন গুন সমৃদ্ধ সজনে পাতাকে
নিরামিষ খাদ্য হিসেবেও গণ্য করা হয়। আমাদের দেহে ২০ শতাংশ প্রোটিন, যা
বিভিন্ন অ্যামাইনো এসিড দারা পরিপূর্ণ। মানুষের দেহের অ্যামাইনো এসিডের
প্রায় সব কয়টি সজনে পাতায় পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞদের গবেষণায় দেখা গেছে যে
একজন গর্ভবতী মায়ের প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়াম ও আয়রনের
ঘাটতি পূরণ করতে দৈনিক সজনে পাতা খাওয়া আবশ্যক। কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া
ছাড়া সজনে পাতা মায়ের বুকের দুধের পরিমাণ বাড়াতে সাহায্য করে। সন্তান
প্রসবের পরে লবণ পানিতে সিদ্ধ করা সজনে পাতা ঘি দিয়ে খেলে, মায়ের বুকের
দুধের পরিমাণ বাড়াতে সাহায্য করে। সজনে পাতায় প্রচুর পরিমাণ আয়রন থাকে।
প্রচন্ড মাথা ব্যাথা হলে সজনে পাতা ও গোলমরিচের গুঁড়ো মিশিয়ে মাথায় লাগালে
মাথাব্যথা কমে যায়। ওপেন কাশি নিরাময়ে সজনে পাতা কার্যকরী।
সজনে পাতার রসের সাথে এক চামচ মধু নিয়মিত খেলে উপকার পাওয়া যাবে। পেটের
বিভিন্ন জটিলতাই বিশেষ কাজ করে থাকে সজনে পাতা। সজনে পাতাতে আয়রন,
ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম ফাইবার, অনেক কিছু রয়েছে তাই গর্ভাবস্থায় সজনে
পাতার অনেক উপকারিতা আসে। সে সময় অনেক পুষ্টির দরকার হয়, যার সজনে পাতা
পূরণ করতে পারে। তাই গর্ভাবস্থায় সজনে পাতার বেশ উপকারিতা রয়েছে।
গর্ভাবস্থায় কি খেলে বাচ্চা ফর্সা হয়
গর্ভাবস্থায় কি কি ফল খাওয়া যাবে না তা নিশ্চয়ই আপনি জেনেছেন। এইবার আপনি
হয়তো এটাও ভাবছেন যে পেটের বাচ্চা কি খেলে ফর্সা হতে পারে। আমাদের সকলেরই
ইচ্ছে থাকে ফুটফুটে একটি সন্তানের বাবা-মা হওয়ার। আর তাই এমন কিছু খাবার
রয়েছে যা খেলে আপনার সন্তান ফর্সা হয়ে জন্মাতে পারে। ফর্সা, শ্যামলা বা কালো
বাচ্চা হওয়াটা নির্ভর করে বাবা-মায়ের জিনের ওপর। তবে কিছু খাবার খেলে বাচ্চা
সুস্থ থাকা সহ সুন্দরও হতে পারে।
এর জন্য খেতে পারেন পুষ্টিকর ফলমূল যেমন কমলা, স্ট্রবেরি, লেবু, আমলকি ইত্যাদি।
এছাড়াও ব্রাজিল ও সবুজ শাকসবজি খেলেও বাচ্চার টক ও স্বাস্থ্যের উন্নতি হতে
পারে। এছাড়াও ডিম ও মাছ খাওয়ার ফলেও শিশুর স্বাস্থ্য কোষের উন্নতি ঘটতে
সহায়তা করে। এছাড়া অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার যেমন ব্ল্যাকবেরি,
স্ট্রবেরি, আঙ্গুর এইসব খাবারে প্রচুর পরিমাণে এন্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। যা
খাবার ফলে ত্বক হয়ে ওঠে উজ্জ্বল।
শেষকথা
গর্ভাবস্থায় কি কি ফল খাওয়া যাবে না আর্টিকেলটি পরে হয়তো আপনি জানতে পেরেছেন
যে গর্ভাবস্থায় কোন কোন ফল গুলো খাওয়া যাবে না। যদি এই বিষয়টি আপনার অজানা
থাকে তাহলে এই পুরো আর্টিকেলটি আপনার পড়া অত্যন্ত প্রয়োজন। কারণ এই সময় আপনার
খাবারের মাধ্যমে শিশুর বিকাশ ঘটবে। আর তাই আপনাকে খাবার মেন্টন করে খেতে হবে। আশা
করি আপনি আর্টিকেলটি পড়ে উপকৃত হয়েছেন এবং পুরো বিষয়টি জানতে পেরেছেন।
আপনার যদি আরও কোন অজানা তথ্য থেকে থাকে তাহলে আমাদের সাথে যোগাযোগ পেজে গিয়ে
সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন অথবা, ওয়েব সাইটটিকে ফলো দিয়ে নতুন আপডেট তথ্য নিতে
সহায়তা নিতে পারেন। তাই আজকের মত এখানেই বিদায় নিচ্ছি ভালো থাকবেন ধন্যবাদ।
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url