অতীত ও বর্তমানের খাদ্যাভাস গুলো কি কি দেখে নিন

অতীত ও বর্তমানের খাদ্যাভাস আপনি যদি না জেনে থাকেন তাহলে অবশ্যই আপনাকে জানতে হবে। আর এই বিষয়ে জানার জন্য আপনি একদম সঠিক আর্টিকেলে প্রবেশ করেছেন। খাদ্য প্রতিটি মানুষের জন্য খুবি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। 
অতীত-ও-বর্তমানের-খাদ্যাভাস
আর তাই আজকের এই আর্টিকেলে আপনার সামনে আমরা ‍উল্লেখ করেছি যে সবার জন্য খাবার কতটা গুরুত্বপুর্ণ এবং আগের তুলনায় এখন কি খাবার খাওয়া উচিত। আর তার জন্য আজকে পুষ্টিকর দশটি খাবারের কথা উল্লেখ করেছি। 

পেজ সূচিপত্রঃ অতীত ও বর্তমানের খাদ্যাভাস

অতীত ও বর্তমানের খাদ্যাভাস

অতীত ও বর্তমানের খাদ্যাভাস সম্পর্কে আপনাদের ধারণা পাওয়া প্রয়োজন। অতীতে বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল সরল ও পুষ্টিকর খাদ্য। তখনকার সময়ের মানুষ প্রধানত ধান, শাকসবজি, মাছ এবং গৃহপালিত পশুর থেকে প্রাপ্ত মাংস গ্রহণ করত। উল্লেখযোগ্যভাবে দেশীয় ফল প্রচুর পরিমাণে খাওয়া হত। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ভাত ছিল প্রধান উপাদান। পাশাপাশি নানা প্রকারের ডাল শাকসবজি এবং মাছ ছিল নিয়মিত খাদ্য।

বর্তমানে মানুষের খাদ্যাভ্যাসে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। আধুনিক জীবনযাত্রার কারণে সময়ের অভাব এবং আরামপ্রিয়তার কারণে প্রক্রিয়াজাত ও ফাস্টফুডের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। এখনকার মানুষ সহজলভ্য খাবার অর্থাৎ প্যাকেটজাত খাবার বেশি পছন্দ করে থাকে। এতে প্রচুর পরিমাণে তেল, চর্বি, লবণ ও চিনি থাকে যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এছাড়াও সোডা ও কোমল পানি এর ব্যবহার বেড়ে গেছে যা অতিরিক্ত চিনি ও ক্যাফেইনের উৎস।

খাদ্য কাকে বলে

খাদ্য কাকে বলে এবং কেন দরকার আপনি কি তা জানেন। যেসব খাবার গ্রহণ করলে দেহের সমস্ত ক্ষয় পূরণ, শোষণ, বৃদ্ধিসাধন ও শক্তি উৎপাদন, সব প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা সহ বিভিন্ন কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে তাকে খাদ্য বলে। খাদ্য মানুষের শরীরের গঠন ও বৃদ্ধিসাধন এবং ক্ষয়পূরণ করতে সাহায্য করে। এছাড়াও শরীরের তাপশক্তি ও কর্ম ক্ষমতা যোগান দেয়। এছাড়াও শরীরের রোগ মুক্ত রাখতে সাহায্য করে।

অসুস্থ শরীরকে সুস্থ রাখায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে সুষম খাদ্য। খাদ্যের ছয়টি উপাদান নিয়ে সুষম খাবার গঠন হয়। উপাদানগুলো হল শর্করা, আমিষ, স্নেহ, ভিটামিন, খনিজ লবন ও পানি। এই ৬ টি উপাদান নিয়েই গঠিত হয় সুষম খাদ্য। আর তাই শারীরিক ও মানসিক সুস্থ থাকার জন্য সুষম খাদ্য প্রতিটি মানুষের দৈনিক খাওয়া দরকার। আর তাহলেই শরির রোগ মুক্ত থাকা সম্ভব হবে।

খাদ্য উপাদান কাকে বলে

খাদ্য উপাদান কাকে বলে এটা হয়তো আপনি না জানলে আমি বুঝতে পারবেন না। যে খাদ্য শরীরের গঠনের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে সকল উপাদান বিদ্যমান থাকে সেগুলোই হল প্রকৃত খাদ্য উপাদান। আর এই খাদ্য উপাদান গুলো দেহকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ ও সবল রাখতে সহায়তা করে থাকে। খাদ্যের উপাদান প্রধানত দুইটি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। একটি হচ্ছে প্রধান উপাদান এবং অপরটি হচ্ছে সহায়ক উপাদান হিসেবে কাজ করে।

প্রধান উপাদান হচ্ছে যেসব খাদ্যে মূল গঠন করে থাকে যেমন আটা, চাল আলু, ফল, শাকসবজি, মাংস ইত্যাদি। এবং এর সহায়ক উপাদান হিসেবে কাজ করে মসলা, লবণ, চিনি, রং, তেল ইত্যাদি। আর এই সহায়ক উপাদান গুলো খাবার কে স্বাদ ও গন্ধ করতে সহায়তা করে। এছাড়াও খাদ্যে অনেক ধরনের আরও উপাদান রয়েছে যেমন প্রোটিন, শর্করা, ভিটামিন, ফ্যাট, পানি, খনিজ ইত্যাদি।

সুষম খাদ্য কাকে বলে

অতীত ও বর্তমানের খাদ্যাভাস এবং কেন দরকার আপনি কি তা জানেন। যেসব খাবার গ্রহণ করলে দেহের সমস্ত ক্ষয় পূরণ, শোষণ, বৃদ্ধিসাধন ও শক্তি উৎপাদন, সব প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা সহ বিভিন্ন কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে তাকে খাদ্য বলে। খাদ্য মানুষের শরীরের গঠন ও বৃদ্ধিসাধন এবং ক্ষয়পূরণ করতে সাহায্য করে। এছাড়াও শরীরের তাপশক্তি ও কর্ম ক্ষমতা যোগান দেয়। এছাড়াও শরীরের রোগ মুক্ত রাখতে সাহায্য করে।
সুষম-খাদ্য-কাকে-বলে
অসুস্থ শরীরকে সুস্থ রাখায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে সুষম খাদ্য। খাদ্যের ছয়টি উপাদান নিয়ে সুষম খাবার গঠন হয়। উপাদানগুলো হল শর্করা, আমিষ, স্নেহ, ভিটামিন, খনিজ লবন ও পানি। এই ৬ টি উপাদান নিয়েই গঠিত হয় সুষম খাদ্য। আর তাই শারীরিক ও মানসিক সুস্থ থাকার জন্য সুষম খাদ্য প্রতিটি মানুষের দৈনিক খাওয়া দরকার। আর তাহলেই শরির রোগ মুক্ত থাকা সম্ভব হবে।

মানুষের প্রধান খাদ্য কোনটি

মানুষের প্রধান খাদ্য কোনটি হয়তো আমরা জানিনা। আমরা যেসব খাবার খেয়ে থাকি তার মধ্যে সবচেয়ে প্রধান খাবার হল শর্করা জাতীয় খাবার। শর্করা জাতীয় খাবারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ধান, গম, চাল, আলু, ময়দা ইত্যাদি পাওয়া যায়। আর এসব খাবারগুলো খাওয়ার ফলে শরীরে এনার্জি সৃষ্টি করে এবং দেহের নতুন কোষ গঠন করতে সহায়তা করে থাকে। তাই প্রোটিন জাতীয় খাবার মানুষের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় এবং প্রধান খাবার।

আবার শর্করা ছাড়াও মানুষের খাদ্য তালিকায় প্রয়োজন হয় ভিটামিন, খনিজ লবণ, প্রোটিন এবং ফ্যাক্ট যা দেহের গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। দেহে যদি সব উপাদান গুলো সঠিকভাবে পায় তাহলে দেহের গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে খাদ্যের ছয়টি উপাদান। তবে সব উপাদানের থেকে শর্করা মানুষের দেহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভাবে কাজ করে। আর তাই বলা যায় খাদ্যের শর্করা উপাদানটি মানুষের প্রধান খাদ্য।

আমাদের দেহের গঠন উপাদান কোনটি

অতীত ও বর্তমানের খাদ্যাভাসের মাধ্যমেই আমাদের দেহ গঠন হয়ে থাকে। এবং আমাদের পুরো শরীরকে গঠন করে থাকে কোষ দিয়ে। আমাদের অনেকগুলো ছোট ছোট কোষ একত্রিত হয়ে দেহের পূর্ণ কাঠামো তৈরি করতে সহায়তা করে। আর এই কোষগুলোকে বাড়াতে আমাদের বিশেষ কিছু খাবারের উপাদানের খুবই প্রয়োজন। যেমন প্রোটিন, গ্লুকোজ, পানি, ভিটামিন, ফ্যাট ও খনিজ উপাদান গুলো মানুষের পুরো দেহকে গঠন করতে সাহায্য করে।

কারণ এই সকল উপাদানগুলোর খাবার গ্রহণ করলে কোষ বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে থাকে। এছাড়াও শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যেমন লিভার, ফুসফুস, কিডনি, হার্ট এসব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে সব সময় সচল রাখতে কাজ করে থাকে এই খাদ্য উপাদান গুলো। এবং দেহের পূর্ণ গঠন করে থাকে এই খাদ্যের মাধ্যমেই। যা কোষ বাড়িয়ে দেহকে পূর্ণ গঠন করতে সহায়তা করে থাকে। তাই বলতে পারি দেহের গঠন উপাদান হলো কোষ।

বাচ্চার বয়স অনুযায়ী খাবার

অতীত ও বর্তমানের খাদ্যাভাস সম্পর্কে এতক্ষণে হয়তো বুঝতে পেরেছেন। কিন্তু বাচ্চার বয়স অনুযায়ী খাবারেরও পার্থক্য রয়েছে। আমরা সবাই জানি শিশুকে ছয় মাস পর্যন্ত শুধু মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর কথা। ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার পর বুকের দুধের পাশাপাশি অন্যান্য খাবারও দিতে হবে। যাতে শিশুর বৃদ্ধি হতে সহায়তা করে। এর জন্য শিশুকে সর্বপ্রথম খিচুড়ি খাওয়ানোর মাধ্যমে শুরু করতে পারেন। এবং সেই খিচুড়ি যেন খাদ্যের ছয়টি উপাদান বিদ্যমান থাকে।
বাচ্চার-বয়স-অনুযায়ী-খাবার
আর তাই একটা শিশুকে বুকের দুধের পাশাপাশি দুই বছর পর্যন্ত খিচুড়ি খাওয়ালেও সেই শিশুটি সুস্থ থাকবে বলে আশা করা যায়। এবং শিশুর দুই বছর পার হয়ে গেলে তাকে খাওয়ানো যেতে পারে ভাত, রুটি, পরোটা, আলুর তরকারি,,ফলমূল, শাকসবজি ইত্যাদি। এবং বাচ্চার বয়স যখন চার থেকে পাঁচ বছর হয়ে যাবে তখন খাবারের পরিমাণ একটু বাড়ানো যেতে পারে। পুডিং, স্যালাড, স্যান্ডউইচ, ডাল, মাংস এছাড়া বিভিন্ন প্রকার ফল খাওয়া যায়।

শেষকথা

অতীত ও বর্তমানের খাদ্যাভাস সম্পর্কে আপনি নিশ্চয়ই এতক্ষনে পুরোপুরি বুঝতে পেরেছেন। সেই সাথে শরীরকে ভালো রাখতে ও সুস্থ রাখতে কেমন খাবার খাওয়া উচিত সেটি জানতে পেরেছেন। আশা করছি এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনি অনেক উপকৃত হয়েছেন এবং অজানা তথ্য পেয়েছেন। আপনার যদি আরো কোন অজানা তথ্য থেকে থাকে তাহলে আমাদের এই ওয়েবসাইটে ফলো দিয়ে রাখুন ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url