কিভাবে একজন সফল ইউটিউবার হওয়া যায় তার ১০ টি উপায়

কিভাবে একজন সফল ইউটিউবার হওয়া যায় এই নিয়ে রয়েছে অনেকের অনেক রকম প্রশ্ন। ইউটিউবার হতে গেলে বেশ কিছু পদক্ষেপ অনুসরণ করে কাজ করতে হয়। যা অনেকেরই নতুন অবস্থায় বুঝতে জানতে সমস্যা হয়।
কিভাবে-একজন-সফল-ইউটিউবার-হওয়া-যায়
তাই আজকের এই আর্টিকেলে একজন সফল ইউটিউবার কিভাবে হওয়া সম্ভব তার সমস্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি এই আর্টিকেলে। চলুন সফল ইউটিউবার হওয়ার প্রায় দশটি উপায় আমরা জেনে নিই।

পেজ সূচিপত্রঃ কিভাবে একজন সফল ইউটিউবার হওয়া যায়

কিভাবে একজন সফল ইউটিউবার হওয়া যায়

কিভাবে একজন সফল ইউটিউবার হওয়া যায় তার জন্য আমাদের বেশ কিছু পদক্ষেপ অনুসরণ করা প্রয়োজন। ইউটিউবে যদি আপনি সফল হতে চান তাহলে আপনার সম্পূর্ণ কনটেন্ট নিজের তৈরি করা হতে হবে। এবং কন্টাইনগুলো এমন ভাবে বানানোর চেষ্টা করবেন যাতে দর্শকদের দেখার জন্য উৎসাহিত হয়। এবং মনে রাখবেন আপনি যখন কন্টেন্ট বানাবেন তখন একটি নির্দিষ্ট ক্যাটাগরি নিয়ে কন্টেন্ট তৈরি করবেন।

এতে আপনি এবং আপনার কনটেন্ট এবং ইউটিউব চ্যানেল সবার কাছে বিস্তার লাভ করবে। এবং আপনার কনটেন্ট এর সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন খুব ভালো করে করতে হবে। যাতে কেউ সার্চ করলে আপনার ভিডিওটি আগে চলে আসে। এবং সব সময় কোয়ালিটি পূর্ণ কনটেন্ট তৈরি করার জন্য চেষ্টা করবেন। এতে দর্শকরা কনটেন্ট দেখতে উৎসাহিত হবে। এবং চেষ্টা করবেন ট্রেনডিংয়ে চলছে এমন কিছু  কনটেন্ট তৈরি করা।

নিজের ইউটিউব চ্যানেল সেটআপ করা

আমরা প্রায় সবাই ইউটিউব ব্যবহার করে থাকি। কেউ ভিডিও দেখার জন্য আবার কেউ ইউটিউব থেকে টাকা ইনকাম করার জন্য। এবং তার জন্য আমাদের একটা ইউটিউব চ্যানেল খুলতে হবে। ইউটিউব চ্যানেল খোলার কিছু দিকনির্দেশনা রয়েছে যা মেনে আপনি একাউন্ট করতে পারেন। প্রথমত আপনার একটা গুগল একাউন্ট দরকার হবে। সে গুগল একাউন্ট থেকে ইউটিউব চ্যানেল লগইন করতে হবে।

এরপর আপনি পার্সোনাল অ্যাকাউন্ট বা ব্র্যান্ড অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে পারেন। অনেক ইউটিউবার আছে যারা ইউটিউব থেকে টাকা ইনকাম করে। সেজন্য ইউটিউবে এমন কিছু বিবরণ দিতে হবে যাতে ওই চ্যানেল থেকে ভিডিও দেখা জন্য উৎসাহিত হয়। এবং আপনাকে একটি সুন্দর প্রোফাইল পিকচার বা ব্যানার লাগাতে হবে ।এরপরে আপনি বিজ্ঞাপন সেটিং করে নিয়ে কনটেন্ট পোস্ট করার মাধ্যমে আপনি ইউটিউব থেকে টাকা ইনকাম করতে পারেন। 

এভাবে আপনাকে প্রতিনিয়ত কনটেন্ট তৈরি করে পোস্ট করতে হবে। যাতে দর্শকরা আপনার ভিডিও বেশি দেখে। এবং দর্শকের আসা কমেন্টের উত্তর দিতে হবে। এতে করে আপনার দর্শকেরা আপনার চ্যানেলের প্রতি উৎসাহিত হবে। এসব নিয়ম-নীতি অনুসরণ করে ইউটিউব চ্যানেল খুলে এবং কনটেন্ট পোস্ট করলে, আপনিও একজন বড় ইউটিউবার হতে পারেন। এবং সহজেই আপনি একটি ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করতে পারবেন।

ভালো ভিডিও তৈরির টিপস

কিভাবে একজন সফল ইউটিউবার হওয়া যায় তার জন্য অবশ্যই একটা জিনিস খুব গুরুত্বপূর্ণ ভাবে দেখতে হবে। সেটা হচ্ছে মানুষ ইউটিউব এ কেমন ভিডিও বেশি দেখে তার প্রতি ধারণা রাখতে হবে। তাহলে আপনিও আপনার ইউটিউব চ্যানেলকে অনেক সাবস্ক্রাইবার ও একটা ফেমাস ইউটিউব চ্যানেল হিসেবে তৈরি করতে পারবেন। আপনারা হয়তো অনেক ভিডিও বা ওয়েবসাইট থেকে জেনেছেন যে ইউটিউব থেকে ইনকাম করা যায়। 

এবং সেই কারণেই কিন্তু আপনি একটি ইউটিউব চ্যানেল খুলেছেন। কিন্তু আপনার ইউটিউব চ্যানেলের কনটেন্টে সেরকম কোন ভিউ করছে না, বা আপনার কন্ঠের মানুষ পছন্দ করছে না। এর জন্য আমাদের জানতে হবে মানুষ কেমন ভিডিও সবচেয়ে বেশি দেখে। এবং নতুন ইউটিউবারদের ক্ষেত্রে এই প্রশ্ন সব সময় থেকে যায়। মানুষ যখন ইউটিউব এ কোন কিছু সার্চ দেয় পরবর্তীতে ইউটিউব এর

হোম পেজে ঐরকম ভিডিও অটোমেটিক শো করে। এবং আপনি ইউটিউব চ্যানেল খোলার পর আপনি যে রিলেটেড ভিডিও তৈরি করতে চাচ্ছেন, ঐরকম কয়েকটি ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন এবং কিছু ভিডিও মনোযোগ দিয়ে দেখুন। আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন কেমন ভিডিও করলে মানুষ বেশি দেখবে বা পছন্দ করবে। আর এভাবে আপনিও আপনার ভিডিওকে ভাইরাল করতে পারেন।

SEO এবং ভিডিও অপটিমাইজেশন

একটা ইউটিউব ভিডিও র‍্যাক করানোর জন্য এসিও করা যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা অনেক ইউটিউবাররা জানে না। এসইও দুই প্রকার একটি হচ্ছে অফপেজ এসিও আরেকটি অন পেজ এসিও। ইউটিউব ভিডিওতে এসিও করার ক্ষেত্রে টাইটেল সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আপনি যেই ভিডিওটি বানাতে চাচ্ছেন সেই ভিডিও মানুষ কি লিখে সার্চ করবে সেটি হচ্ছে মূলত টাইটেল। এবং টাইটেলে আপনাকে অবশ্যই মূল কিওয়ার্ড রাখতে হবে।
SEO-এবং-ভিডিও-অপটিমাইজেশন
তাহলে দেখবেন আপনার ভিডিওটি প্রথম পেজের সারিতেই থাকবে। এবং আপনি এর জন্যই বেশি ভিউ পেতে পারেন। এবং ভিডিওতে অবশ্যই সুন্দর করে তিন থেকে চার লাইনের একটি ডেসক্রিপশন লিখে নিবেন। ডেসক্রিপশনেও চেষ্টা করবেন মূল কিওয়ার্ডগুলো রাখা। এবং টাইটেলে আপনি হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করবেন। এবং ভিডিও পোস্ট করার আগে টাইটেলের নামটি অবশ্যই ভিডিওর ফাইল নেমে রিনেম করে বসিয়ে দিবেন। এবং সেই নামটি থাম নিলেও বসিয়ে দিবেন।

থাম্বনেইল এবং টাইটেল তৈরি করা

কিভাবে একজন সফল ইউটিউবার হওয়া যায় তা জানতে হলে আপনাকে এটাও জানতে হবে ইউটিউব ভিডিওর জন্য যে কিভাবে বা কেমন থামনিল ও ও টাইটেল তৈরি করা যায়। থামনিল ও টাইটেল ইউটিউব ভিডিওর জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। আপনি আপনার ইউটিউব ভিডিওর জন্য এমন একটি থামনিলে ইমেজ ব্যবহার করবেন, যাতে সেই ইমেজ এর মধ্যে ওই ভিডিওর সকল বিষয়বস্তু ফুটিয়ে তোলা যায়। এবং সেই ইমেজে স্পষ্ট টেক্সট বা কোন চিহ্ন ব্যবহার করুন। এতে দর্শকের ভিডিও দেখার জন্য আকর্ষণ হবে।

এবং টাইটেল এমন ভাবে তৈরি করবেন যা হবে সংক্ষিপ্ত আকারে। এবং টাইটেলে এমন শব্দ ব্যবহার করার চেষ্টা করবেন যা দিয়ে মানুষজন ভিডিও সার্চ করে দেখতে চাই। অর্থাৎ টাইটেলে আপনি কিওয়ার্ড ব্যবহার করতে পারেন। এবং টাইটেল আপনি এমনভাবে দিবেন যাতে লোভনীয় হয়ে থাকে। এবং মানুষের মনে সৃষ্টি হতে পারে ভিডিও দেখার আগ্রহ। যেমন দশটি উপায়, ৫ মিনিটে শিখুন, এই ধরনের কিছু লোভনীয় বাক্য যুক্ত করতে পারেন।

ইউটিউবে কনটেন্টের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা

ইউটিউব এ কন্টেন্ট পোস্ট করার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে যদি আপনি একজন সফল ইউটিউবার হতে চান। কারণ নিয়মিত ভিডিও পোস্ট করতে পারলে আপনার চ্যানেল সবার কাছে বিশ্বস্ত হয়ে উঠবে এবং আপনি আপনার চ্যানেলের জন্য দ্রুত সাবস্ক্রাইবার ও ভিউয়ার্স অর্জন করতে পারেন। তবে এটি শুরুর দিকে সবচাইতে বেশি খেয়াল রাখা দরকার। কারণ ইউটিউবে মনিটাইজেশন পাওয়ার জন্য সাবস্ক্রাইবার ও ভিউয়ার্সের দরকার হবে।

আপনি একটি নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির উপর নিয়মিত পোস্ট করার একটি রুটিন করে নিতে পারেন। যেমন সপ্তাহে একটি বা সপ্তাহের দুইটি করে কনটেন্ট পোস্ট করতে পারেন। নিয়মিত কনটেন্ট পাবলিশ করলে দর্শকরা সেই ভিডিও দেখার জন্য আগ্রহী হয়ে থাকে। যদি সেই ভিডিওটি হয় কোয়ালিটি পূর্ণ। আর এই সঠিক ভিডিও নিয়মিত পোস্ট করার মাধ্যমেই একজন ইউটিউবার সফল হতে পারে।

ইউটিউব ট্রেন্ড এবং টপিক নির্বাচন

কিভাবে একজন সফল ইউটিউবার হওয়া যায় তার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হচ্ছে ট্রেন্ডিং ভিডিও তৈরি করা। একজন ইউটিউবার সফল হওয়ার জন্য তার ট্রেন্ডিং ভিডিও তৈরি করাই যথেষ্ট হবে। কারণ মানুষজন ট্রেন্ডিং ভিডিওর উপর আকর্ষণ বেশি থাকে। এবং সেই ট্রেন্ডিং ভিডিও তৈরি করে পোস্ট করা হলে সেই ভিডিও থেকে সাবস্ক্রাইবার বাড়তে পারে এবং ভিউয়ার্সের মাত্রা অনেক বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এর জন্য আপনি ইউটিউবে ট্রেন্ডিং পেজে গিয়ে দেখতে পারেন কোন ভিডিও ট্রেন্ডিংয়ে রয়েছে।
ইউটিউব-ট্রেন্ড-এবং-টপিক-নির্বাচন
এবং আপনি চাইলে গুগলের সাহায্য দেখতে পারেন কোন টপিক বা কোন কিওয়ার্ডে মানুষজন বর্তমানে বেশি সার্চ করছে। তার মধ্যে থেকে আপনি যেই টপিক গুলোর উপর সবচেয়ে বেশি পারদর্শী সেই ক্যাটাগরির ভিডিও ক্রিয়েট করতে পারেন। এতে আপনার ভিডিওটি মানসম্মত হবে বলে মনে করা যায়। বিভিন্ন ধরনের শিক্ষামূলক ভিডিও মানুষের সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয়। তাই এই ধরনের টপিক নিয়ে আপনি চাইলে কাজ করতে পারেন।

শেষকথা

 কিভাবে একজন সফল ইউটিউবার হওয়া যায় তা নিশ্চয়ই এতক্ষণে আপনি পুরোপুরি বুঝতে পেরেছেন। আর্টিকেলে উল্লেখিত বিষয়গুলো মেনে যদি আপনি ইউটিউবে কাজ করতে পারেন, তাহলে আপনি হতে পারেন একজন সফল ইউটিউবার। আশা করছি পুরো আর্টিকেলটি আপনি বুঝতে পেরেছেন এবং অজানা তথ্যকে জানতে পেরেছেন। আপনার আরো কোন অজানা তথ্য থেকে থাকলে আমাদের এই ওয়েবসাইটটিকে ফলো দিয়ে রাখুন ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url